
সৃজনশীলতার প্রথম পাঠ
শিশুর মন কোমল, কৌতূহলী ও কল্পনাপ্রবণ। তাদের চিন্তা ও অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম সুন্দর মাধ্যম হলো আর্ট ও অঙ্কন। একটি ছোট শিশু যখন কাগজে রং ছড়িয়ে ছবি আঁকে, তখন সে শুধু ছবি আঁকে না—সে তার মনের ভাষা প্রকাশ করে। তাই শিশুদের আর্ট ও অঙ্কন শিক্ষা তাদের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিশুরা আঁকাআঁকির মাধ্যমে প্রকৃতি, মানুষ, পশুপাখি ও চারপাশের পরিবেশকে চিনতে শেখে। রঙের ব্যবহার তাদের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং সৌন্দর্যবোধ তৈরি করে। একটি শিশু যখন সূর্য, নদী, ফুল কিংবা গ্রামের দৃশ্য আঁকে, তখন তার ভেতরের অনুভূতি ও সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়।
অঙ্কন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা নিজের হাতে কিছু সৃষ্টি করতে পারলে আনন্দ অনুভব করে এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ জন্মায়। একই সঙ্গে আঁকাআঁকি শিশুদের ধৈর্য, মনোযোগ ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বর্তমানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্ট শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ এটি শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক।
বিশ্বখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসো বলেছিলেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী।” এই উক্তির মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রতিটি শিশুর মাঝেই সৃজনশীল প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যা ও উৎসাহ।
অভিভাবকদের উচিত শিশুদের আঁকাআঁকিতে উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজ করতে সুযোগ করে দেওয়া। অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে শেখালে শিশুরা আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, শিশুদের আর্ট ও অঙ্কন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি তাদের মেধা, কল্পনা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই শিশুদের হাতে বইয়ের পাশাপাশি রং-তুলি তুলে দেওয়া সময়ের দাবি।
শিশু মেধাবিকাশের অংকন স্যার
আলম সিকদার
উত্তরা ঢাকা।
উপদেষ্টা : আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, প্রকাশক ও সম্পাদক : মো জাকির হোসেন, মফস্বল সম্পাদক : জজম আহাম্মেদ জাওয়াদ, বাণিজ্যিক সম্পাদক : মরিওম আক্তার (মনি), সহ-সম্পাদক : রিয়াজুল ইসলাম।
ঠিকানা :
বাড়ি ৩৪, রোড ১০, সেক্টর ০৬, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০।
All rights reserved © 2026