ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়—এটি শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ এবং অসাধারণ পরিশ্রমের ফল।
আর এই পরিশ্রমের পেছনে কিছু মানুষ থাকেন, যাদের নাম আলোচনায় খুব কম আসে, কিন্তু তাদের অবদান গড়ে তোলে ভবিষ্যতের তারকা।
তেমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ কোচ হলেন সাইফুল ইসলাম খোকন, যিনি Tejgao 7 Rasta, BG Press এলাকার Bangladesh Development Cricket Academy পরিচালনা করেন।
তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কঠোর হলেও ফলাফল সবসময়ই অনুপ্রেরণামূলক।
সাইফুল ইসলাম খোকন বিশ্বাস করেন—
“প্রতিভা জন্মায় না, তৈরি করা হয়।”
এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বছরের পর বছর ধরে তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তুলছেন জাতীয় পর্যায়ের উপযোগী করে।
তার একাডেমি থেকে উঠে আসা অনেক খেলোয়াড় আজ বিভিন্ন পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছে, যার মধ্যে জাতীয় দলেও জায়গা করে নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।
তানভীর ইসলাম আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি উদীয়মান নাম।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি নিজের দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে নজর কাড়েন।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।
তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৪.৫০, যা চাপের ম্যাচে অসাধারণ একটি পারফরম্যান্স।
এই ম্যাচে তানভীর ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ছিল ম্যাচ পরিবর্তনকারী।
এই দুটি উইকেটই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় এবং বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তানভীর ছিলেন কার্যকর।
তিনি ৬ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র ৩৩ রান খরচ করেন।
তার এই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোর গড়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে বাংলাদেশ ম্যাচে শক্ত অবস্থানে যেতে সক্ষম হয়।
তানভীর ইসলামের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন তার কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন।
তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো—
তিনি খেলোয়াড়দের শুধু ক্রিকেট শেখান না, শেখান কীভাবে চাপের মধ্যে নিজেকে স্থির রাখতে হয়।
জীবনে বাধা আসে, সমালোচনা আসে, সন্দেহ আসে।
কিন্তু প্রকৃত প্রতিভা কখনো থেমে থাকে না।
যেমন সূর্য অন্ধকার মেঘ ভেদ করে উঠে আসে, তেমনি তানভীর ইসলাম আজ নিজের পরিশ্রম আর দক্ষতায় সামনে এগিয়ে চলেছেন।
তিনি এখন শুধু একজন খেলোয়াড় নন—তিনি একটি অনুপ্রেরণার নাম।
দ্বিতীয় ওয়ানডে:
১০ ওভার – ৪৫ রান – ২ উইকেট – ইকোনমি ৪.৫০
প্রথম ওয়ানডে:
৬ ওভার – ৩৩ রান – ০ উইকেট (নিয়ন্ত্রিত বোলিং)
তানভীর ইসলামের এই যাত্রা আমাদের শেখায়—
পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।
সঠিক কোচিং থাকলে প্রতিভা একদিন না একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছায়।
আর এই সাফল্যের পেছনে নীরব নায়ক হিসেবে কাজ করছেন কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন—যিনি প্রতিদিন নতুন তারকা তৈরি করে চলেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এমনই কিছু পরিশ্রমী মানুষদের হাত ধরেই আরও উজ্জ্বল হবে।