গোপালগঞ্জে বেইলি ব্রিজ ধসে খালে বালুর ট্রাক ও ইজিবাইক, আহত ৩: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শেখ মো আরমান
তারিখ: ১৪ জুন, ২০২৬
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম প্রধান সড়কের পাচুড়িয়া এলাকায় বেইলি ব্রিজ ভেঙে একটি বালুভর্তি ট্রাক, ইজিবাইক ও সাইকেল খালে পড়ে গেছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক, তাঁর সহকারী ও এক ইজিবাইকচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে গোপালগঞ্জ শহরের সাথে ঘোনাপাড়াসহ আশেপাশের অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সেতু ভাঙল যেভাবে:
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে শহরের দিক থেকে ঘোনাপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি অতিরিক্ত বালুভর্তি ট্রাক পাচুড়িয়া এলাকার বেইলি ব্রিজটিতে ওঠে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির মাঝামাঝি পৌঁছানো মাত্রই বিকট শব্দে সেটি মাঝখান থেকে ধসে খালের পানিতে পড়ে যায়। ঠিক একই মুহূর্তে সেতুতে থাকা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইক এবং একজন সাইকেল আরোহীও ছিটকে খালের পানিতে তলিয়ে যান।
উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসাসেবা:
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা খালের পানি থেকে আহত ট্রাকচালক, তাঁর সহকারী (হেলপার) এবং ইজিবাইকচালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের গভীরভাবে
পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, উদাসীন প্রশাসন
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাচুড়িয়ার এই বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘ দিন ধরেই অত্যন্ত নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে শত শত বালুর ট্রাক যাতায়াত করত। প্রশাসনকে বারবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হলো আজ।
জনদুর্ভোগ তুঙ্গে, স্থায়ী সেতুর দাবি:
শহরের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই যোগাযোগ পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওপারে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। হেঁটে পার হওয়ারও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি বিভাগের রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে প্রশাসন যেন অনতিবিলম্বে এখানে একটি অস্থায়ী বা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই স্থানে একটি স্থায়ী, টেকসই ও নিরাপদ কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।