বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন
Notice :
“টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ হয়তো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ঈদের এই আনন্দ আর প্রিয়জনদের ভালোবাসা চিরন্তন। সবাইকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈদ মোবারক! 🌙✨”

ফজলুল হক স্মৃতিচারণে শিক্ষা অনুরাগী

ফজলুল হক স্মৃতিচারণে
শিক্ষা অনুরাগী
মো: ফজলুল হক মিয়া একজন আলোর দিশারী।

জরিপধর্মী বিশেষ প্রতিবেদন
লেখা: মো. জাকির হোসেন

শিক্ষা অনুরাগী এবং শিক্ষাগুরু হিসেবে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে
তৎকালীন ব্রিটিশের প্রথম আমল ১৯৫২ সাল থেকে পারিবারিক ভাবে এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন, তার ধারাবাহিকতায় তার সন্তানেরা আজ
গড়ে তুলেছেন স্কুল ও কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়।
গড়ে উঠেছে বড়ইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সারা বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।

ফজলুল হক মিয়ার পুত্র অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বাড়ি ঘেঁষে বিশাল এলাকা জুড়ে বড়ইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি স্থাপন করেন , তারই সন্নিকটে গ্রান্থ ঘর, শিক্ষা কমপ্লেক্সে গড়ে উঠেছে,
পুরো এলাকাটি ধীরে ধীরে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
ব্রিটিশ-পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা-যাত্রা: একজন শিক্ষাগুরু মো ফজলুল হক মিয়া আলোয় একটি প্রজন্মের গল্প-
শিক্ষাগুরু মো ফজলুল হক মিয়া যার জন্ম ১৯২০ ইংরেজী সালে ব্রিটিশ শাসন আমল,
চলমান গতি পাকিস্তান- বাংলাদেশ ১৯৯০ইংরেজি এহভুবন ত্যাগ করে পরলোকগমন করেন।
এবং তার সহধর্মনি ছিলেন একজন মনিষী নারী সরকারি পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘রত্নগর্ভা যার গর্ভে ৮ ছেলে ও ১  মেয়ে মোট ৯ জন সন্তান সকলেই উচ্চশিক্ষা ডক্টরেট পিএইটি অর্জন করেছেন।

একটি জাতির উন্নতির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হলো শিক্ষা। আজকের বাংলাদেশ শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চায় যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। সেই পথের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন—ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময়, দেশভাগ, পাকিস্তান আমল এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।
এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন অসংখ্য শিক্ষক অথবা শিক্ষাগুরুরা,
তাঁদের কেউ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত, আবার কেউ নিজের গ্রাম, ইউনিয়ন কিংবা এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন আলোর দিশারি। সেই ধারার একজন হিসেবে স্থানীয়ভাবে স্মরণীয় শিক্ষাগুরু মো ফজলুল হক -এর নামকে সামনে রেখে দেখা যেতে পারে তৎকালীন সমাজে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও শিক্ষকের ভূমিকা।
শিক্ষাগুরু ফজলুল হক মিয়া ঝালকাঠি জেলাধীন রাজাপুর থানা ৫ নং বড়ইয়া ইউনিয়নের তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলের দলিল উদ্দিন তালুকদারের উরাস জাতক সেজো ছেলে শিক্ষাগুরু মো ফজলুল হক মিয়া।
জীবনের ষোল আনাই বিসর্জন দিয়েছেন শূন্য শিক্ষা পরিবারগন পূর্ণ শিক্ষা প্রদানের জন্য।

তারই অনুসরণে তার বড় সন্তান ডক্টর এম এ হান্নান ফিরোজ স্ট্যামফোট ইউনিভার্সিটি এবং তার কনিষ্ঠ ছোট ভাই ডক্টর জাকারিয়া লিংকন
ইভাইস ইউনিভার্সিটি সহ ভাই বোনেরা মিলে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও সৃষ্টি করেন।

এবং তাদেরই হাতের হাত খরিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তিরাই তাদের দোয়া ও রুহের মাগফেরাতে
দৃঢ় প্রত্যয়ী ।
ব্রিটিশ আমলে শিক্ষার চিত্র
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সালে ব্রিটিশ ভারতে সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৫.৬ শতাংশ। ১৯৪১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩.৯ শতাংশে। একই সময়ে অবিভক্ত বাংলায় সাক্ষরতার হার ছিল প্রায় ১৬.১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়েও সাধারণ মানুষের বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে ছিল।
১৯৩৯-৪০ সালের দিকে বাংলায় ‘শিখি একজন, শেখাই অন্য জনে’ ধরনের সাক্ষরতা আন্দোলন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নৈশ বিদ্যালয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ নানা কারণে এসব উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার কত ছিল?
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পূর্ববাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়। এই সময়ের শিক্ষা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ১৯৫১ ও ১৯৬১ সালের আদমশুমারি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৫১ সালের আদমশুমারিতে ব্যবহৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী, পূর্ব পাকিস্তানে ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২৪.৭ শতাংশকে সাক্ষর হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল; মোট জনসংখ্যার হিসাবে হার ছিল ২১.১ শতাংশ। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার দাঁড়ায় ২১.৫ শতাংশ, আর মোট জনসংখ্যার হিসাবে ১৭.৬ শতাংশ।
তবে গবেষণামূলক বিশ্লেষণে ১৯৫১ সালের হার প্রায় ১৮.৮ শতাংশ এবং ১৯৬১ সালে ১৯.৯ শতাংশ হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে। এর কারণ হলো সাক্ষরতার সংজ্ঞা ও তথ্য সমন্বয়ের পদ্ধতিতে পার্থক্য ছিল। তাই ঐতিহাসিক জরিপে শুধু একটি সংখ্যা না দিয়ে কোন সংজ্ঞায় হিসাব করা হয়েছে তা উল্লেখ করাই বেশি নির্ভরযোগ্য।
তখন একজন শিক্ষকের মূল্য কতটা ছিল?
আজকের দিনে একটি গ্রামের শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সময় শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। বিদ্যালয় ছিল কম, শিক্ষার ব্যয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ছিল বেশি এবং অনেক পরিবারে শিশুদের বিদ্যালয়ের বদলে পারিবারিক বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে হতো।
এই বাস্তবতায় একজন শিক্ষক ছিলেন শুধু পাঠদানের মানুষ নন—তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন কর্মী।
এখানেই শিক্ষাগুরু ফজলুল হক -এর মতো শিক্ষকদের গুরুত্ব সামনে আসে। একজন শিক্ষক যখন একটি শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দেন, তাকে বই পড়তে শেখান এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন, তখন তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী তৈরি করেন না; তিনি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেন।
ফজলুল হক : একটি নাম, একটি শিক্ষার প্রতীক
‘শিক্ষাগুরু’ শব্দটি কেবল একজন শিক্ষককে বোঝায় না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শ্রদ্ধা, আদর্শ ও প্রজন্ম গড়ার স্মৃতি।
শিক্ষাগুরু ফজলুল হককে নিয়ে স্থানীয়ভাবে যদি তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, পরিবার ও এলাকার প্রবীণদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা যায়, তাহলে তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব। তিনি কোথায় শিক্ষকতা করেছেন, কত বছর শিক্ষাদান করেছেন, কতজন শিক্ষার্থী তাঁর কাছে পড়েছেন, শিক্ষার বিস্তারে কী ভূমিকা রেখেছেন—এসব তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দলিল হতে পারে। ফজলুল হকের নামে লাইব্রেরী ও পাঠাগার এলাকার দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে,
কারণ বড় ইতিহাসের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষকদের ইতিহাসও একটি জাতির সামাজিক ইতিহাসের অংশ।
১৯৬১ সালের পূর্ব পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—জনসংখ্যার বিপুল অংশ তখনও শিক্ষার পূর্ণ সুযোগ পায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের পরও ঝরে পড়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে কাগজে সাক্ষর হিসেবে গণ্য হওয়া এবং কার্যকর শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য ছিল।
পূর্ব পাকিস্তানে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য পরবর্তীকালে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও গ্রামীণ শিক্ষা কার্যক্রম নেওয়া হয়। ১৯৬৩ সালে আলাদা প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা শাখা গঠন এবং ১৯৬৪ সালে পাইলট প্রকল্প চালুর তথ্যও পাওয়া যায়।
এরপর আসে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সামনে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা।
অতীতের অন্ধকার থেকে আজকের বাংলাদেশ
আজকের বাংলাদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা সেই অতীতের তুলনায় অনেক বিস্তৃত।
কিন্তু এই অগ্রগতির ইতিহাস শুধু সরকারি নীতি, বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়।
এই ইতিহাসে রয়েছে গ্রামের সেই শিক্ষক, যিনি হাতে বই নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন; রয়েছে সেই শিক্ষাগুরু, যিনি দরিদ্র পরিবারের সন্তানকেও বলেছেন—“পড়াশোনা করো, শিক্ষাই তোমার ভবিষ্যৎ।”
শিক্ষাগুরু ফজলুল হকের মতো স্থানীয় শিক্ষকদের জীবন ও কর্ম তাই শুধু স্মৃতিচারণের বিষয় নয়; এগুলো সংরক্ষণ করা গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা-ইতিহাসের একটি মূল্যবান অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
শেষকথা
ব্রিটিশ আমলের অল্প শিক্ষিত সমাজ থেকে পাকিস্তান আমলের সীমিত শিক্ষাব্যবস্থা পেরিয়ে আজকের বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারের যে দীর্ঘ যাত্রা—তার প্রতিটি ধাপে অসংখ্য মানুষের অবদান রয়েছে।
একজন শিক্ষক একটি বই হাতে তুলে দেন,
একজন শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলো হাতে নেয়,
আর সেই আলো একদিন আলোকিত করে একটি সমাজ।
তাই শিক্ষাগুরু মো ফজলুল হক মিয়ার মতো নিবেদিত শিক্ষকদের স্মরণ করা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান জানানো নয়—এটি একটি প্রজন্মের শিক্ষার সংগ্রাম ও আলোর পথচলাকে সম্মান জানানো।

সৎ শিক্ষা, মানবিক শিক্ষা ও আলোকিত প্রজন্ম—
এই হোক আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অঙ্গীকার।
বাংলা মাত্র প্রকাশক ও সম্পাদক
— মো. জাকির হোসেন

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed By Developed by Maznun masud

ফজলুল হক স্মৃতিচারণে শিক্ষা অনুরাগী

23 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
https://www.facebook.com/zh.zh.333292
www.banglamatra.com