বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
Notice :
“টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ হয়তো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ঈদের এই আনন্দ আর প্রিয়জনদের ভালোবাসা চিরন্তন। সবাইকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈদ মোবারক! 🌙✨”

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের

বাংলা মাত্রা

১৩ মে ২০২৬, ১৭:৫১
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১৭:৫৮

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আজ অনুষ্ঠিত একনেক-এর সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। ছবি : পিএমও
ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার আগ্রাসন হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আজ অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার।

এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো, সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত ভূমি উন্নয়ন এবং নগরায়ণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচন ইশতেহার-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে এটি পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, জলসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষিজমিতে লবণাক্ততা কমানো, বন্যা সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ এবং অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

এছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনঃখনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং পদ্মা নদীতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

প্রকল্পের পটভূমি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমের পদ্মানির্ভর অঞ্চল দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং সেখানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস।

এতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭০-এর দশকে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা থেকে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে সরিয়ে নেওয়া হয় কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষার জন্য।

এর ফলে বাংলাদেশ অংশে পদ্মা নদীর শুষ্ক মৌসুমের পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

ফলে কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ, নৌ-পরিবহন, গৃহস্থালি পানির প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন আরও বলেছে, মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও খালে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জীবিকা, জীববৈচিত্র্য এবং সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমিশনের মতে, বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এসব এলাকায় পদ্মাই ভূপৃষ্ঠস্থ মিঠাপানির প্রধান উৎস।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed By Developed by Maznun masud

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের

13 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
https://www.facebook.com/zh.zh.333292
www.banglamatra.com