কবরস্থান থেকে রান্নাঘর—সবখানেই পানি, টুঙ্গিপাড়ায় চরম দুর্ভোগ
সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি মধ্যেপাড়া, দুর্ভোগে প্রায় ২০০ পরিবার
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | শেখ মো. আরমান
প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উ
পজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, রান্নাঘর, মসজিদে যাতায়াতের পথ এমনকি কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ পরিবারের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যেপাড়া গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে রয়েছে ৬টি কবরস্থান, ৪টি মসজিদ, ২টি মাদ্রাসা এবং ৪টি গণশিক্ষা কেন্দ্র। তবে বর্ষা মৌসুম এলেই গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। বিশেষ করে অন্তত ২০০ পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই কোনটা রাস্তা আর কোনটা পুকুর বোঝা যায় না। ঘরের পানি বালতি দিয়ে সেচে ফেলতে হয়। গত বছর ড্রেন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। প্রতিবছর একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।”
জলাবদ্ধতার কারণে কবরস্থানেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। বাসিন্দা মুক্তার আলী জানান, সম্প্রতি একটি দাফন সম্পন্ন করতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কবরের ভেতর পর্যন্ত পানি জমে থাকায় মরদেহ দাফনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
মসজিদে যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান শেখ বলেন, “বৃষ্টির সময় মসজিদের সামনের রাস্তা নোংরা পানিতে ডুবে যায়। এতে অনেক মুসল্লি নিয়মিত নামাজ আদায় করতে আসতে পারেন না।”
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান ও মজিবুর শেখ জানান, অধিকাংশ পরিবার এখনো মাটির চুলায় রান্না করেন। রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকের ঘরে চুলা জ্বলে না। ফলে কেউ একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত খরচ করে বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “টুঙ্গিপাড়া ভৌগোলিকভাবে নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানার পর জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।।