সাংবাদিক নির্যাতনে আবারও রক্তাক্ত সাংবাদিক টুলটুল,
নিজস্ব প্রতিবেদন বাংলা মাত্রা
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করছেন না দেশের সাংবাদিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন অকুতোভয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনডোসোর গার্মেন্টসে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হামিদ মন্ডল ও অ্যাডভোকেট কালামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিক টুটুল সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তখন এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন।
পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদ মন্ডল ও তাঁর ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন।
গাজীপুর মহানগর সাংবাদিক প্রতিরোধ কমিটি একটি দলের সমন্বয়ক জাকির হোসেন আব্দুর, জনাব রাজ্জাক হাসান,এবং মিসেস ফাতেমা সহ কিছু সাংবাদিক নেতারা টুলটুল কে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজে দেখতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশের সঙ্গে যাওয়ার সময় দুই সাংবাদিককে একটি সংঘবদ্ধ দলের সদস্যরা আটকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বরং বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে এবং অনেকেই এই মহান পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়; এটি অবাধ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের স্বার্থে রাষ্ট্র ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।