বরিশালে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদন
বাংলা মাত্রা
বরিশাল।
জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সমাবেশ’। জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ,ব্যানারে নাম থাকলেও তাকে দেখা যায়নি।,
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুল হাসান।
উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব জনাব আনোয়ার হোসাইন।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, শহীদদের অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তাঁদের আত্মত্যাগ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে জনাব আনোয়ার হোসেনের বক্তৃতার অনুলিপি তুলে ধরা হলো
আমার সহযোদ্ধা, আমি গভীরভাবে স্মরণ করতেছি শহীদ এবং শহীদ পরিবারকে আহত ভাইদের কে এবং বোনদেরকে, আমি এখানে দুইটি কথা উপস্থাপন করতে চাই আজকে এখানে লেখা হয়েছে জুলাই ২৪ শে গন অভ্যুত্থান, আসলে এটা কি গণঅভ্যুত্থান ছিল? নাকি গণ বিপ্লব ছিল? আসলে আজকে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হলো না ।
আপনারা জানেন একাত্তরের স্বাধীনতার বিপ্লব ছিল সেই বিপ্লব কি ছিল? একটা স্বাধীনতার বিপ্লব ছিল, স্বাধীনতার সশস্ত্র বিপ্লব ছিল, সেই স্বাধীনতার সশস্ত্র বিপ্লবের বিরুদ্ধে আরেকটা সশস্ত্র গোষ্ঠী আমাদের দমন করতে চেয়েছে,আপনারা জানেন পৃথিবীর ইতিহাসে জুলাই বিপ্লবের গণঅভ্যুত্থান বলতে চাই না, এটাকে আমি বিপ্লব বলতে চাই, আর এই বিপ্লব চলমান, আর এই বিপ্লব এমন একটি ইতিহাস….
বলেছেন রাষ্ট্রের সমস্ত সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে, হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তির বিরুদ্ধে, সমস্ত নিরস্ত্রের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করেছে,শাহাদাত পূরণ করেছে, দ্বিতীয় রিপাবলিক, দ্বিতীয় স্বাধীনতা,
দ্বিতীয় নুতন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে,
কাজী আমি এই বিপ্লবকে ধারণ করতে চাই, এই বিপ্লবকে চলমান রাখতে চাই।
আপনারা সবাই বিচারের আশা করেছেন, এই বিপ্লব যদি চলমান থাকে তাহলেই আপনারা বিচার পাবেন। নতুবা নতুন কোন বন্দোবস্ত না হয় তাহলে এই বিপ্লবের সুফল যারা ভোগ করছেন তারাই ভোগ করবেন।
এই বিচারের বাণী নিরবৃত্তে কাঁদবে।
আপনারা জানেন যে বৈষম্যর বিরুদ্ধে বিপ্লব হয়েছিল আজকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বরিশাল যে বাজেট হয়েছে জাতীয় বাজেটের যে অংশ আমাদের বরিশাল বিভাগের যে বাজেট হয়েছে, বৈষম্যর বাজেট হয়েছে,আবময় জনতা শুধু অবহেলিত না জনতার এই জনপদ শুধুই অবহেলিত। কিন্তু আপনারা জানেন যে আমাদের প্রাচ্যে ভেরি করি, আমাদের যে সম্পদ রয়েছে সেই সম্পদের বন্দোবস্ত হচ্ছে না, আমাদের এখানে শিল্প-কারখানা বা বাণিজ্যিক ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পায়ন বাণিজ্যিক অঞ্চল নেই।আমরা বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী মাইগ্রেট করি, সবাই চাচ্ছে কর্মসংস্থান, আজকে জুলাই পরিবারেরাও কর্মসংস্থান চাচ্ছেন, অর্থনীতিকে একটা সাইম্যতা চাচ্ছেন, একটা অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত চাচ্ছেন, আজকে এখানে প্রশাসক মহোদয় আছেন তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক আছে একান্ত মানুষ তিনি, আমি বলবো এখানে যারা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাগণ আছেন,
এখানে বোধহয় বিভাগীয় কর্মকর্তা কমিশনার মহোদয় আসেন নাই প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, তবে জুলাই শোকাহত পরিবারের জন্য তার আসা উচিত ছিল, তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শোনা উচিত ছিল,
আমি চাচ্ছি এই বরিশালকে উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থানের জন্য এই জায়গায় যে আমাদের প্রইসের ফ্যানী বলি,আমাদের এই নদী পথ পথ দিয়ে বরিশালের জেলা উপজেলা যেই পথ গুলি কানেক্টিভিটি আছে আমরা সেই ফ্যানী শব্দের অর্থ হচ্ছে এই নদীমাতৃক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এইটাকে কিভাবে গড়ে তোলা যায়?
কিভাবে শিল্পায়ন করা যায়? কিভাবেনআমাদের বরিশালকে ঠিক একটা বাণিজ্যিক নগর হিসাবে গড়ে তোলা যায়? এবং কিভাবে বরিশাল বাসির দুঃখ দুর্দশা গুছানো যায়?
আমরা যাতে স্থানান্তর না হই, আমরা যাতে মাইক্রিটন না হই,আমাদের এ জায়গায় সুশিক্ষিত আবান, কর্মসংস্থা এবং কর্মশক্তি পরায়ন, আমাদের যাদের জনশক্তি আছে তাদের কাজে লাগাতে পারি,এবং সব জায়গায় যেন কর্মযজ্ঞ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি।ইনশাল্লাহ সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনারা যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ক্ষমতাভোগী যেই দলটি রয়েছেন তারাও চিন্তা করবেন কিভাবে বরিশাল কে বৈষম্য মুক্ত রাখা যায়। আজকে আমাদের এই বরিশালের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমরা ছয় লাইন আমরা বলি কই এখনো বাজেট আসে নাই, ভোলা সেতু এখনো নিশ্চয়তা হয় নাই, আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নতি হয় নাই, এগুলো আমাদের দেখতে হবে, বিপ্লবের আমাদের একটা ধারণা যে বৈষম্য, বৈষম্য করা যাবেনা, এবং এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে, কাজিই বিপ্লবকেই চলমান রাখতে হবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ দিয়ে আনার হোসেনের বক্তৃতা শেষ করতে দেখা যায়,তবে আনোয়ার হোসেনের বক্তৃতা বড় সারা হয়ে উঠে আছে। এভাবে অনুষ্ঠানে পার্থক পার্থক ভাবে মঞ্চেবিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তৃতা দিতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।